Sunday, 8 November 2026 · 28 Jumada I 1448 AH

সকালের সংবাদ

The Maldives, every morning at 7

The stories that matter in politics, business, tourism and the atolls, written by our own newsroom. Free, one email a day, unsubscribe any time.

পরিবেশ

তাপজনিত চাপে মালদ্বীপে বছরে ৫৭.৬ কোটি ডলার ক্ষতির শঙ্কা

কর্মস্থলে গরম বাড়ায় ২০৪০ সালের মধ্যে মালদ্বীপের বছরে প্রায় ৫৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং প্রায় ২ হাজার ৪০০টি পূর্ণকালীন চাকরির সমান কর্মঘণ্টা হারানোর শঙ্কা, বলছে আইএলও।

A fishmonger prepares yellowfin tuna at the fish market in Malé. The ILO says workers in agriculture, fisheries and construction lose the most productivity to heat.
মালের মাছবাজারে ইয়েলোফিন টুনা কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এক বিক্রেতা। আইএলও বলছে, তাপের কারণে কৃষি, মৎস্য ও নির্মাণশ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা সবচেয়ে বেশি কমে। Photo: Mark Fischer / Wikimedia Commons (CC BY-SA 2.0)

কর্মস্থলে তাপজনিত চাপ বাড়তে থাকায় ২০৪০ সালের মধ্যে মালদ্বীপের বছরে প্রায় ৫৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতি হতে পারে এবং প্রায় ২ হাজার ৪০০টি পূর্ণকালীন চাকরির সমান কর্মঘণ্টা হারিয়ে যেতে পারে। বৈশ্বিক নিঃসরণ কম রাখা গেলেও এ ক্ষতি হবে বলে ৩০ অক্টোবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)।

২৯ অক্টোবর প্রকাশিত আইএলওর মালদ্বীপবিষয়ক দেশভিত্তিক গবেষণা ও ফ্যাক্টশিটে ২০৪০ সালকে ১৯৮৫–২০১৪ সময়ের একটি গড় বছরের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। প্যারিস চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কম নিঃসরণের পথে এই ক্ষতি দেশের জিডিপির প্রায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ এবং শ্রমশক্তির প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশের সমান।

নিঃসরণ বেশি হলে ২০৪০ সালে ক্ষতি সর্বোচ্চ প্রায় ৩ হাজার ৬০০টি পূর্ণকালীন চাকরি এবং ৬১ কোটি ৪০ লাখ ডলারে (জিডিপির ৮ দশমিক ২ শতাংশ) পৌঁছাতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, ২০৬০ সালের মধ্যে বার্ষিক ক্ষতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৫০ কোটি থেকে ১৭০ কোটি ডলারে, যা জিডিপির ৯ দশমিক ২ থেকে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ।

আইএলও বলছে, এর প্রভাব এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে। ২০২৩ সালে তাপজনিত চাপে মালদ্বীপের ক্ষতি হয়েছে ভিত্তি সময়ের গড় বছরের চেয়ে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার বেশি (২০১৫ সালের স্থির মূল্যে)। একই বছর প্রায় ১ হাজার ৭০০টি পূর্ণকালীন চাকরির সমান বাড়তি কর্মঘণ্টা হারিয়েছে দেশটি।

২০২৩ সালের জিডিপি ক্ষতির ৬৯ দশমিক ৩ শতাংশ, অর্থাৎ ২৫ কোটি ২৬ লাখ ডলার, হয়েছে পর্যটন, আতিথেয়তা ও খুচরা ব্যবসাসহ সেবা খাতে। এরপর পরিবহন ও বাণিজ্য খাতের অংশ ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ। হারানো চাকরির ৫৭ শতাংশ সেবা খাতে এবং ২২ শতাংশ নির্মাণ খাতে। ক্ষতির ৩৫ শতাংশই হয়েছে এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে, যখন গরম সবচেয়ে বেশি থাকে।

ফ্যাক্টশিট অনুযায়ী, ভিত্তি সময়ে নির্মাণ এবং কৃষি ও মৎস্য খাতের শ্রমিকেরা তাপজনিত চাপে তাঁদের উৎপাদনশীলতার ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ হারিয়েছেন, যা যেকোনো খাতের মধ্যে সর্বোচ্চ।

শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর জোনি সিম্পসন বলেন, ‘তাপজনিত চাপ থেকে শ্রমিকদের সুরক্ষা দেওয়াকে পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য, জলবায়ু অভিযোজন এবং অর্থনৈতিক সহনশীলতা নিয়ে আমাদের ভাবনার অংশ করতে হবে।’

আইএলওর সুপারিশ

গবেষণায় সবচেয়ে গরম সময় এড়িয়ে কর্মঘণ্টা সরিয়ে নেওয়া, কাজ ও বিশ্রামের নির্দিষ্ট চক্র চালু করা এবং কর্মস্থলে ছায়া, খাবার পানি ও শীতলীকরণের ব্যবস্থা রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মস্থলের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ, পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের মান জোরদার, তাপের ঝুঁকি নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং আয় হারানোর ভয়ে কর্মঘণ্টা কমাতে পারেন না—এমন শ্রমিকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার কথাও বলা হয়েছে।

আইএলওর হিসাবে, ২০৪০ সালের মধ্যে শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমান কর্মঘণ্টা এবং বছরে প্রায় ২ হাজার ৬৬০ কোটি ডলার ক্ষতি হতে পারে। মালদ্বীপের গবেষণাটি ছয় দেশের একটি সিরিজের অংশ; অন্য দেশগুলো হলো শ্রীলঙ্কা, ইথিওপিয়া, ঘানা, লেবানন ও সেনেগাল। ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম ও ভি২০ (সিভিএফ-ভি২০)–এর সহায়তায় আইএলও গবেষণাগুলো করিয়েছে।