বিজয় দিবস: কেন মালদ্বীপ ১৯৮৮ সালের ৩ নভেম্বর স্মরণ করে
১৯৮৮ সালের ৩ নভেম্বর সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে সশস্ত্র ভাড়াটে সেনারা মালেতে নামে। কী ঘটেছিল এবং দেশটি কেন দিনটি পালন করে, তা জানুন।
মালদ্বীপ প্রতি বছর ৩ নভেম্বর বিজয় দিবস পালন করে। ১৯৮৮ সালে সরকার উৎখাতের একটি সশস্ত্র চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার স্মরণে দিনটি সরকারি ছুটির দিন।
কী ঘটেছিল
১৯৮৮ সালের ৩ নভেম্বর ভোরে শ্রীলঙ্কার জঙ্গি সংগঠন পিপলস লিবারেশন অর্গানাইজেশন অব তামিল ইলম (প্লট)-এর প্রায় ৮০ জন সশস্ত্র ভাড়াটে সেনা মালেতে নামে। ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ লুথুফির নেতৃত্বে একদল মালদ্বীপির সঙ্গে মিলে তারা কাজ করছিল।
হামলাকারীরা ন্যাশনাল সিকিউরিটি সার্ভিসের সদর দপ্তর, রেডিও ও টেলিভিশন কেন্দ্র এবং প্রেসিডেন্টের কার্যালয় দখলের চেষ্টা করে। ন্যাশনাল সিকিউরিটি সার্ভিসের সদস্যরা তাঁদের সদর দপ্তর ধরে রাখেন, আর প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুম আত্মগোপনে গিয়ে অন্য দেশগুলোর সাহায্য চান।
অপারেশন ক্যাকটাস
ভারত সেই অনুরোধে সাড়া দেয়। অপারেশন ক্যাকটাস নামের অভিযানে আবেদনের প্রায় নয় ঘণ্টা পর ভারতীয় প্যারাট্রুপাররা হুলহুলে বিমানবন্দরে নামে, মালেতে পৌঁছে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনে।
কিছু হামলাকারী জিম্মিদের নিয়ে ছিনতাই করা মালবাহী জাহাজ এমভি প্রগ্রেস লাইটে পালায়। পরে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ শ্রীলঙ্কার কাছে জাহাজটি আটকায় এবং হামলাকারীরা ধরা পড়ে। এই হামলায় ১৯ জন মালদ্বীপি প্রাণ হারান; তাঁদের শহীদ হিসেবে স্মরণ করা হয়।
দিনটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিজয় দিবস দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারীদের সম্মান জানায় এবং প্রাণ উৎসর্গকারী ১৯ জন শহীদকে স্মরণ করে। একটি ছোট দ্বীপরাষ্ট্রের জন্য ১৯৮৮ সালের ঘটনা মনে করিয়ে দেয় দেশটি কতটা ঝুঁকিতে থাকতে পারে, আর ঐক্য ও নিরাপত্তা কতটা মূল্যবান।
প্রতি বছর মালের ৩ নভেম্বর জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভে পতাকা উত্তোলন, সরকারি অনুষ্ঠান ও পুরস্কার প্রদান এবং প্রেসিডেন্টের জাতির উদ্দেশে ভাষণের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হয়।