Sunday, 8 November 2026 · 28 Jumada I 1448 AH

সকালের সংবাদ

The Maldives, every morning at 7

The stories that matter in politics, business, tourism and the atolls, written by our own newsroom. Free, one email a day, unsubscribe any time.

স্বাস্থ্য

মা-বাবা, শিশু ও প্রবীণদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন জরুরি

জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি মনোযোগ জরুরি। সহায়তা দেওয়ার সময় মা-বাবা, শিশু, প্রবীণ ও আসক্তির সমস্যায় থাকা মানুষের ওপর ভিন্ন ভিন্ন চাপের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

Mental health deserves attention at every stage of life, with support that recognises the different pressures facing parents, children, older people and those experiencing addiction.
Mental health deserves attention at every stage of life, with support that recognises the different pressures facing parents, children, older people and those experiencing addiction.
সব প্রজন্মের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি মনোযোগ দেওয়া জরুরি—অনুভূতি প্রকাশ করতে শেখা শিশু, নানা দায়িত্ব সামলানো মা-বাবা কিংবা জীবনের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে চলা প্রবীণ। আসক্তির সমস্যায় থাকা মানুষেরও এমন যত্ন প্রাপ্য, যা তাঁদের শুধু আসক্তির পরিচয়ে না দেখে নিজস্ব চাহিদাগুলোকে গুরুত্ব দেয়। মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার অর্থ হলো, কেউ সংকটে পড়ার আগেই কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার সুযোগ তৈরি করা। পাশাপাশি বুঝতে হবে, দৈনন্দিন সহায়তা ও পেশাদার সেবার ভূমিকা আলাদা হলেও এগুলো একে অন্যের পরিপূরক। পরিবারের যত্ন নিতে গিয়ে মায়েদের নিজের ভালো থাকাকে সবার শেষে রাখতে হবে—এমন হওয়া উচিত নয়। বিশ্রাম নেওয়া, দুশ্চিন্তার কথা বলা ও সাহায্য চাওয়ার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বিশ্রাম নিতে বলার বদলে সঙ্গী ও স্বজনেরা শিশুর যত্ন ও ঘরের কাজের দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে বাস্তব সহায়তা দিতে পারেন। বাবাদেরও মন খুলে কথা বলার সুযোগ দরকার। সব সময় শক্ত থাকতে হবে বা প্রতিটি সমস্যার সমাধান করতে হবে—এমন প্রত্যাশা তাঁদের নিজের দুর্বলতা প্রকাশে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। একজন বাবা কীভাবে সব সামলাচ্ছেন, তা জানতে চাওয়া এবং বিচার না করে শোনা এমন আলাপের পথ খুলতে পারে, যা কাজকর্মের নিয়মিত খোঁজখবরে হয়তো উঠে আসে না। শিশুদের সহায়তার শুরু এমন পরিবেশ তৈরি করা থেকে, যেখানে তারা নিরাপদ বোধ করে কথা বলতে পারে। বড়রা ধৈর্য ধরে শুনতে পারেন, তাদের দুশ্চিন্তাকে গুরুত্ব দিতে পারেন এবং কষ্টকে খারাপ আচরণ বা সাময়িক মেজাজের পরিবর্তন বলে উড়িয়ে দেওয়া এড়াতে পারেন। ঘুম, মেজাজ, স্কুলের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বা সম্পর্কের পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হলে উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়া বিচক্ষণ পদক্ষেপ। অন্য সবার মতো প্রবীণদেরও মানসিক ভালো থাকার বিষয়ে সমান মনোযোগ প্রাপ্য। আলাপে শুধু তাঁদের শারীরিক স্বাস্থ্য নয়, ইচ্ছা, সম্পর্ক এবং স্বাধীনভাবে চলার অনুভূতিও স্থান পাওয়া উচিত। নিয়মিত যোগাযোগ ও পারিবারিক জীবনে অংশ নেওয়ার সুযোগ তাঁদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের অধিকার অক্ষুণ্ণ রেখেই সবার সঙ্গে যুক্ত থাকতে সহায়তা করতে পারে। আসক্তির সমস্যায় থাকা মানুষের উপযুক্ত চিকিৎসার পাশাপাশি সহমর্মিতা দরকার। লজ্জা দেওয়া ও দোষারোপ করা কখনো যত্নের বিকল্প নয়। সবার নিরাপত্তা ও ভালো থাকা নিশ্চিত করে এমন সীমারেখা বজায় রেখেই পরিবার পেশাদার সহায়তা নিতে উৎসাহ দিতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে কার্যকর সহায়তা প্রায়ই সুনির্দিষ্ট হয়: কোনো কাজ ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া, কথা বলার জন্য সময় রাখা বা চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ঠিক করতে সাহায্য করা। কারও কথা শুনতে হলে সব প্রশ্নের উত্তর জানা দরকার নেই। দরকার তাঁকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর কষ্টকে অন্যের কষ্টের সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতা এড়ানো। চিকিৎসার প্রয়োজন হলে নিজের যত্ন নেওয়া তার বিকল্প হতে পারে না। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক কষ্ট, দৈনন্দিন জীবন সামলাতে অসুবিধা বা মাদকদ্রব্য ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ থাকলে পেশাদার পরামর্শ নেওয়া উচিত। কেউ তাৎক্ষণিক বিপদে থাকলে বা নিজের ক্ষতি করার ঝুঁকিতে থাকলে জরুরি চিকিৎসাসহায়তা নিন। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে পরিবার ও সমাজে আলোচনা শুধু কোনো সচেতনতা দিবসে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। সহমর্মিতা, মনোযোগ ও সাহায্য পাওয়ার জন্য নিজের কষ্ট যথেষ্ট গুরুতর কি না, তা কাউকেই প্রমাণ করতে হওয়া উচিত নয়।